জামালপুর প্রতিনিধি :
জুলাই বিপ্লবে নিহতদের স্মৃতিতে জামালপুরে তারুণ্যের উৎসবের একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও উপজেলা প্রশাসনকে এক কাতারে দেখা গেল। ফেসবুকে সেই দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর থেকে জেলাজুড়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ।
মঞ্চে পাশে বসেছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহীদ পিংকি ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মিলন। মিলনকে আগামীতে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চান আওয়ামী লীগের নেতা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক বাবু। এমন বক্তব্য দেন বাবু।
মঙ্গলবার সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাডুডু খেলার অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন মিলন বলেন, ‘আমি ওই অনুষ্ঠানের কোনো অতিথি না। আমার এলাকা তাই সেখানে গিয়েছিলাম। এখন কে কোথায় কার সঙ্গে বসবে, এটা তো আমি জানি না। অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন।’
তার দাবি, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমি মোট ৪০টি মামলার আসামি হয়েছিলাম, জেল খেটেছি। ১৬টি বছর বাড়িতে থাকতে পারিনি। তাই এখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাত করার কোনো সুযোগ নেই।’
অন্যদিকে নাজমুল হক বাবু মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছি। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য পদে আমাকে রাখা হয়েছিল। আমি তখন জানতাম না। জানার পরপরই আমি সেই সময়ে এই পদ প্রত্যাহার করে চিঠি দিয়েছিলাম।’
তার দাবি, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আমার এলাকায় যারা মামলার শিকার হয়েছিল, পকেটের টাকা খরচ করে জামিনের জন্য ৫ আগস্টের আগেই তাদেরকে উচ্চ আদালতে পাঠিয়েছিলাম। নিম্ন আদালতেও আসামি হওয়া ছাত্রদের জন্য আমি শ্রম, সময়, অর্থ ব্যয় করেছি।’
বাবু বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে এখনো আমি এলাকাতেই আছি। আমি শুধু এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছি, আর জনগণ আমাকে ভালোবাসে বলে।’ তার দাবি, ‘একটি পক্ষ আমার ক্ষতি করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আমার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করছে।’
অনুষ্ঠানটির সভাপতি বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমনুল করিম বলেন, ‘খেলা বা অনুষ্ঠানটি আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠে হওয়ায় আমাকে অনুষ্ঠানটির সভাপতি করা হয়। কিন্তু মূলত খেলাটি পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন, উদ্বোধন করেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন আর সঞ্চালনা করেছেন ছাত্র আন্দোলনের শাকিল নামে একটি ছেলে। এখন বাবু চেয়ারম্যান কিভাবে সেখানে গিয়ে বক্তব্য দিল, এই বিষয়টি আমি জানি না। কারণ আমি স্বাগত বক্তব্য দিয়ে অফিস রুমে চলে গিয়েছিলাম।’
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, ‘তিনি (বাবু) আওয়ামী লীগ নেতা, বিষয়টি আমি একদমই জানতাম না। যেহেতু আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি, তাই তার সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা নেই। আমি কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারা আমাকে বলেছে তিনি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি বিষয় হচ্ছে- আমি ওই অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলাম। কিন্তু তাকে দাওয়াত করা হয়েছিল কিনা, সেই বিষয়টি আমি নিশ্চিত না। আমি যেহেতু আজ জানতে পারলাম, এরপর থেকে আমি তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবো।’
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.