1. admin2@dailysmtv24.com : admin :
  2. admin@dailysmtv24.com : admin :
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

এডভোকেট এ.এম জিয়া হাবীব আহসান: এক সংগ্রামী মানবাধিকার কর্মী ও বিশিষ্ট আইনজীবীর জীবনচিত্র

সোহেল মোঃ ফকরূদ-দীন
  • Update Time : বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫
  • ২৮ Time View

সোহেল মো. ফখরুদ-দীন

এডভোকেট এ.এম জিয়া হাবীব আহসান একজন সুপ্রসিদ্ধ আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজসেবক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় অবদান রেখে চলেছেন এবং অসহায়, নির্যাতিত ও বিচারপ্রার্থী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মজীবন, সামাজিক অবদান ও মানবাধিকার কর্মকাণ্ড চট্টগ্রামের আইন অঙ্গনসহ সমগ্র বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের ঐতিহ্যবাহী মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (BHRF) এর তিনি পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব।

পারিবারিক পরিচিতি ও শিক্ষাজীবন: ১৯৬৩ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এডভোকেট এ.এম জিয়া হাবীব আহসান। তাঁর পিতা মরহুম আবু মোহাম্মদ য়াহয়্যা একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন এবং তাঁর মাতা মরহুমা আলহাজ্ব জায়তুন আরা বেগম ছিলেন এক মহিয়সী নারী। তাঁর মাতামহ এডভোকেট এজাহার হোসাইন বি.এল. ছিলেন একজন স্বনামধন্য আইনজীবী, যা প্রমাণ করে যে আইনচর্চার ঐতিহ্য তাঁর পারিবারিক রক্তেই প্রবাহিত।

এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসানের সহধর্মিণী প্রিন্সিপ্যাল আশফা খানম, যিনি ব্যারিস্টার আমিনুল হকের কন্যা। পরিবারে শিক্ষার এক সুদৃঢ় ভিত্তি ছিল, যা তাঁকে জ্ঞান অর্জনে ও পেশাগত দক্ষতায় অগ্রসর হতে সহায়তা করেছে।

তিনি ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর উচ্চশিক্ষা আইন বিষয়ে আরও গভীর জ্ঞানের অনুসন্ধানে তাঁকে পরিচালিত করে, যার ফলে তিনি ১৯৯০ সালে এলএল.বি ডিগ্রি এবং ২০০৯ সালে এলএল.এম ডিগ্রি অর্জন করেন।

আইন পেশায় প্রবেশ ও পেশাগত অবদান: এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান ১৯৯৩ সালে আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসিং সনদ লাভ করেন এবং ২০০০ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রামের ট্যাক্স বার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।

তাঁর পেশাগত জীবনে উল্লেখযোগ্য দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে কাজ করা। তিনি সীমা ধর্ষণ মামলায় এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা একটি আলোচিত মামলা ছিল।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা ও প্যানেল ল’ইয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠান হলো—
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা,ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (UCBL),
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (IBBL), রূপালী ব্যাংক,
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB), আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, চট্টগ্রাম ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল এইড কমিটি,
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (BHRF),

সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মকাণ্ড :;এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান একজন নিবেদিতপ্রাণ মানবাধিকার কর্মী। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে তিনি নিপীড়িত ও বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানবাধিকার অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

তিনি বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে “মানবাধিকার ও মার্কিন বিচার ব্যবস্থা” বিষয়ক এক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।
২০০৬ সালে নেপালে ক্রস লার্নিং শেয়ারিং ভিজিট প্রোগ্রাম।
২০০৫ সালে সিঙ্গাপুর পুলিশের আমন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ।
ইউএনএইচসিআর-এর সহায়তায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আয়োজনে রিফিউজি ল’ সংক্রান্ত কর্মশালা।

বিশিষ্ট মানবাধিকার পদক ও সম্মাননা: তাঁর মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, এর মধ্যে রয়েছে—

১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড, ২০০২ সালে শ্রেষ্ঠ মানবাধিকার শাখা সভাপতির সম্মাননা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে, ২০০৬ সালে প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে বিশেষ সম্মাননা, ২০১৪ সালে ভয়েস অব আমেরিকা ফ্যান ক্লাব কর্তৃক মানবাধিকার পদক, ২০২৩ সালে ব্রিটিশ বিরোধী যোদ্ধা হাবিলদার রজব আলী খাঁ স্মৃতি পদক লাভ করেন।

সাংগঠনিক ও সামাজিক ভূমিকা: এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার ও শিক্ষামূলক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি—
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জাতীয় কমিটির সদস্য, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম শাখার সমন্বয়কারী,সেন্টার ফর ডিজাবলস কনসার্ন (সিডিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান,চট্টগ্রাম জেলা স্কাউটস-এর নির্বাহী সদস্য,
আমরা চাঁটগাঁবাসী সংগঠনের নির্বাহী সদস্য,
চট্টগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য,
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান: একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন আলোচিত ফৌজদারি মামলায় তিনি সফলভাবে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে, কক্সবাজার কারাগারে বিনা বিচারে আটক ৩৯ জন বিদেশি বন্দিদের মুক্তির জন্য রিট মামলা এবং বন্দরটিলা ত্রিপুরণ হত্যা মামলা তাঁর উল্লেখযোগ্য আইনি সাফল্য।

লেখালেখি ও গবেষণা: এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান একজন নিয়মিত লেখক ও গবেষক। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় তাঁর ৩,০০০-এর বেশি আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর আইন ও ভ্রমণ বিষয়ক একাধিক মুল্যবান গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন ও গুণাবলি: তিনি এক কন্যা ও তিন পুত্র সন্তানের জনক। ব্যক্তিজীবনে তিনি আত্মবিশ্বাসী, ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন ও বন্ধুবৎসল একজন ব্যক্তি।

এডভোকেট এ.এম জিয়া হাবীব আহসান আইন, মানবাধিকার ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দেশের অসহায় মানুষের জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ তাঁকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখুক। আমীন।
—————
তথ্যসুত্র : চট্টগ্রামের ইতিহাসে মনীষী, বিশ্ব ইতিহাস পরিক্রমা ২০২৪- সোহেল মো. ফখরুদ-দীন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025 Coder Boss

Design & Develop BY Coder Boss